ডিফ্লেশনারি টোকেন (Deflationary token)
সংক্ষেপে ডিফ্লেশনারি টোকেনের সাপ্লাই সময়ের সঙ্গে কমে, সাধারণত প্রতি লেনদেনে কিছু টোকেন বার্ন করে বা নিয়মিত buyback-এর মাধ্যমে।
ডিফ্লেশনারি টোকেনে এমন নিয়ম থাকে, যা সময়ের সঙ্গে এর মোট সাপ্লাই কমায়। সাধারণ পদ্ধতিটি হলো বার্ন: টোকেন এমন ঠিকানায় পাঠানো হয় যা কারও নিয়ন্ত্রণে নেই, অথবা কন্ট্র্যাক্টের মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়, যাতে সেগুলো আর কখনো প্রচলনে ফিরতে না পারে। যুক্তিটা সহজ: চাহিদা একই থাকলে সাপ্লাই কমার সঙ্গে বাকি প্রতিটি টোকেন মোট সাপ্লাইয়ের তুলনামূলক বড় অংশ হয়ে ওঠে।
এর কয়েকটি পদ্ধতি আছে। কিছু কন্ট্র্যাক্ট প্রতিটি ট্রান্সফারের নির্দিষ্ট শতাংশ বার্ন করে, যেমন প্রতিবার কেনা বা বেচার 1%। অন্যগুলো ফি জমা করে নির্দিষ্ট সময় পরপর বাজার থেকে টোকেন কিনে বার্ন করে। কিছু নেটওয়ার্ক ব্যবহারকারীদের দেওয়া ট্রানজ্যাকশন ফির একটি অংশ বার্ন করে। এতে নেটওয়ার্কে কার্যক্রম বেশি হলে সাপ্লাই কমতে পারে, আর কম হলে বাড়তে পারে; অর্থাৎ সাপ্লাই কমা নির্ভর করে ব্যবহারের ওপর।
হোল্ডারদের জন্য মূল কথা হলো, শুধু বার্ন করলেই মূল্য তৈরি হয় না। যে টোকেন কেউ ব্যবহার করে না, সেটির 2% বার্ন হলেও তেমন কিছু বদলায় না। আর ট্রান্সফারের সময় বার্ন কার্যত ট্যাক্সের মতো কাজ করে, যা ট্রেডিংয়ের খরচ বাড়ায়। বার্ন বলতে আসলে কী বোঝানো হচ্ছে, সেটিও যাচাই করুন: টিমের নিয়ন্ত্রণে থাকা ওয়ালেটে টোকেন সরিয়ে রাখা বার্ন নয়। টিমের বরাদ্দের যে টোকেন কখনো বিক্রি করার কথাই ছিল না, সেগুলো বার্ন করলেও তেমন পরিবর্তন হয় না।
বার্ন রেট নির্দিষ্ট, নাকি মালিক তা বদলাতে পারেন এবং কোনো mint ফাংশন নীরবে নতুন টোকেন তৈরি করে বার্নের প্রভাব মুছে দিতে পারে কি না, তা কন্ট্র্যাক্ট পড়ে দেখুন। স্টেকিং রিওয়ার্ড বা অন্যভাবে নতুন টোকেন ইস্যুর তুলনায় সাপ্লাই বাস্তবে কতটা কমছে, তা মিলিয়ে দেখুন। ছোট টোকেনে বার্ন ট্যাক্সের সঙ্গে প্রায়ই অন্য ফিও যোগ হয়, তাই কেনাবেচার মোট খরচ আপাতদৃষ্টিতে যতটা মনে হয়, তার চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে।




